সবুজ
পাহাড়ের পাকদন্ডী বেয়ে জল সইতে যায় যে পুরনারীরা, তাদের মঙ্গলশঙ্খে বেজে ওঠে
আশ্বিনের ভোর। কবে কোন গ্রীষ্মসন্ধ্যায় অথবা হিমেলরাতে উলুধ্বনি হয়েছিল ঠিক মনে
পড়ে না, তবে পঞ্জিকার পাতায় কাশফুল ফুটলেই স্মৃতিতে ভিড় করে আসে খোলা মাঠ, উদোম
হাওয়া আর খোড়ো চালা। একচিলতে উঠোনে কবেকার এক্কাদোক্কা খেলার সঙ্গীসাথীরা। শাশুড়ির
গঞ্জনা সইতে হয়না ঠিকই, কিন্তু ঘরেতে চাল বাড়ন্ত হলে সদানন্দ তাঁর জীর্ণ ও পুরাতন
বাঘছালে প্রযত্ন হন।
সপ্তমীর
সকালে শিউলিরঙা শাড়ি নরম আঙুলে আল্পনা দেয়। জলতরঙ্গের ছন্দে সেই আল্পনা দেখে হলুদ
বসন্তবৌরি ডেকে ওঠে। তারপর কচি কলাপাতায় মোড়া কমলারঙের নরম আলো একটু একটু করে
ছড়িয়ে পড়ে আকাশের এ কোন থেকে ও কোন। কিশোরীর
চোখের পল্লবে লেগে থাকে ভাসমান শিশির আর রূপকথা। ক্রমশ বুকের মধ্যে সুরের বিস্তার
ঘটে ইমনকল্যাণে।
পুরনো
বটগাছ, জীর্ণ মন্দির, ভাঙা ঘাট পেরিয়ে শালুক তুলে আনে যে একলা কৈশোর, তার দু’চোখে
লেগে থাকে বড় হওয়ার আকাশকুসুম। অষ্টমীর রাত যখন নবমীতে পা দেয়, সেই মাহেন্দ্রক্ষণে
একটি চিতল হরিণী মুখ তুলে চায় তার দিকে। আর ঠিক তখনই মাঝগাঙ থেকে ভেসে আসে
ভাটিয়ালীর অলীক সুর। সেই হরিণীর ভেজা ভেজা কালো ও গভীর চোখ দুটোয় মিশে থাকে
পাহাড়ের নরম কুয়াশা। কালো আকাশের অগুন্তি নক্ষত্রের দিকে তাকিয়ে মরে যেতে ইচ্ছে
করে খুব।
জানি,
আসছে বছর আবার হবে। কপোলে লেগে থাকবে কত না সিঁদুর,
বিদায়বেলায়। ঢাকের বোল আর কোলাকুলিতে মিশে যাবে মানুষের আঘ্রাণ। তবু সকালের
মন্ত্রোচ্চারণ, দুপুরের ভোগ আর সন্ধ্যার আরতিতে ফিরে ফিরে আসবে এই শাশ্বত সময়। এ
যেন এক সময়হীন বৎসরনামা, যা চলতেই থাকবে এক অন্তহীন চরৈবেতি মন্ত্রে।।
এই পুজোয় সকলে
ভালো থাকুন –
সন্দীপ (বাবুন)।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন