সবুজ
পাহাড়ের পাকদন্ডী বেয়ে জল সইতে যায় যে পুরনারীরা, তাদের মঙ্গলশঙ্খে বেজে ওঠে
আশ্বিনের ভোর। কবে কোন গ্রীষ্মসন্ধ্যায় অথবা হিমেলরাতে উলুধ্বনি হয়েছিল ঠিক মনে
পড়ে না, তবে পঞ্জিকার পাতায় কাশফুল ফুটলেই স্মৃতিতে ভিড় করে আসে খোলা মাঠ, উদোম
হাওয়া আর খোড়ো চালা। একচিলতে উঠোনে কবেকার এক্কাদোক্কা খেলার সঙ্গীসাথীরা। শাশুড়ির
গঞ্জনা সইতে হয়না ঠিকই, কিন্তু ঘরেতে চাল বাড়ন্ত হলে সদানন্দ তাঁর জীর্ণ ও পুরাতন
বাঘছালে প্রযত্ন হন।
শীত পিঠে মেখে দাঁড়িয়ে আছে রোদ্দুর সেই কবে থেকে। তুমি একটু আপন করে ডেকে নিলে পুটুশফুলের ঝোপেরা হেসে ওঠে। জলসিঞ্চন হয় সেই কবে থেকে শুখা হয়ে যাওয়া মাঠের চোখমুখ। এখনও আকাশ দেখেনি বলে গুমরে ওঠা মেয়ে তোমার ইশারার ছোঁয়ায় মেঘমেদুর। আর কতকাল জলের আড়ালে থাকবে?
সোমবার, ১০ অক্টোবর, ২০১৬
সোমবার, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
বৃহস্পতিবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
নি:সঙ্গ মান্দাস
।১।
আমার বড়ো বয়সে একটাও দোয়েল পাখি দেখিনি কোনদিন। কী মজা হতো যদি রেলগাড়ি চলে যেত অপার সবুজে। তাহলে হাফপ্যান্ট পরা বয়স মাঠে মাঠে দৌড়ে একাকার। কোথায় চলে গেছে অনন্ত কথা বলা মানুষেরা, শীতলেপে মুড়ি দেওয়া ঠাকুমার ঝুলি। মাঠের আল বেয়ে সীমানাহীন পথে এগিয়ে যাওয়ায় মনকেমন করে ওঠে ঘুমভাঙা সকালে রোজ। অতীতজুড়ে ছড়িয়ে ছিটিয়ে এইসব আদুরে যাপন।
।২।
সাদা দাড়ি বুড়ো মাঝিকে আমি নদী পার করে দিতে বললাম। সে বগলদাবায় নৌকো নিয়ে চলে গেলো। ঘাসের সবুজ গন্ধঅলা একলাপথে এ আমি কার অপেক্ষায়?
বৃহস্পতিবার, ১ সেপ্টেম্বর, ২০১৬
একলা নাবিকের ডিঙি
।১।
এইতো গতকাল বেলাভূমি ছেড়েছি। জেটির গায়ে লেগে আছে নির্ঘুম জীবনযাপন। আমার না-কথা বলা রাত্রি, দুটোমাত্র ঝিনুক আর অসংখ্য হাওয়ার ঢেউ মিলেমিশে গিয়েছিল। ঝাউগাছের পাতা বেজে উঠেছিল খিলখিল শব্দে। বালিয়াড়ি ধরে পায়ের ছাপ হেঁটে গিয়েছিল বহুদূর। সমস্ত তীর জুড়ে তখন উন্মাদ গোধুলী। নাবিক হয়েও কোন বন্দরে আমার বউ নেই কোনদিন।
।২।
মাঝসমুদ্রের গাঢ় নীল মিশে গেছে কালো রঙে। সীগালের ডানায় ভর করে নেমে আসছে নিঝুম সন্ধ্যা। তারপর ফুটকি ফুটকি বিন্দু। ওপরের ডেকে চিত হয়ে শুয়ে আছি একা। এখন তুমি সঙ্গে থেকো। চেপে ধরে রেখো আমার হাতটা। আর তোমার ভেজা চুলের জলের ফোঁটা আমার মুখজুড়ে থাকুক। আমি তৃষ্ণার্ত হয়ে কি চেয়েছিলাম কিছু?
সময় অনন্ত নয়
- ১ -
“If I
knew that today would be the last time I’d see you, I would hug you tight and
pray the Lord be the keeper of your soul”. - Gabriel García Márquez.
যখন সময় ফুরিয়ে
যাবে
রোদ্দুর যেন ছুঁয়ে থাকে তোমায়।
রোদ্দুর যেন ছুঁয়ে থাকে তোমায়।
বাবুল মোরা, নইহার ছুটো হি যায়ে ..................
১৮৫৪-র ১৩ই মার্চ, ফাল্গুনের সকাল। গোমতী নদীর জল থেকে উঠে
আসছে হালকা কুয়াশার দল। এখনো ঘুমঘোরে জড়িয়ে শহরের চোখ। কাইজারবাগের প্রাসাদের প্রাঙ্গনের
গাছগুলো ফুলে ফুলে রঙিন। প্রাসাদের ছাদে একলা
পায়চারী করছেন ওয়াজেদ আলি শাহ।
আজ বাতাসে গোলাপের খুশবু নেই। নেই ঠুম্রীর বোল। হায়, ঠুম্রীকে জান দিলাম, মানে
তুললাম খোদ এই লক্ষ্ণৌ-এর
আগুনটা জ্বালিয়ে রাখ
“রাত ভর সরদ্ হাওয়া চলতি রহি
রাত ভর হামনে আলাও তাপা
ম্যায়নে মাজী সে কয়ি খুস্ক সি শাখে কাটি
তুমনে ভি গুজ্রে হুয়ে লমহো কে পাত্তে তোড়ে...” - গুলজার
বরফজমা নদীর ধার থেকে কনকনে ঠাণ্ডা বইছে আজ।
রাতের শরীরে চোখ মেলে আগুন রয়েছে জ্বলে। এস। তাপ নিই। আগুনে কিছু অতীত গুঁজে
দিলাম। তুমিও ফেলে আসা সময়ের সব পাতা ঝরাও। আগুনে দাও সব। সবকিছু।
চারিদিকে আজ শুধু তুষার ঝরার নিঃশব্দ।
সামুদ্রিক পাকদন্ডী
কয়েকটি কাজ দ্রুত
সারা হয়। স্টোভ বের করে কেরোসিন তেল ঢালা। চা বানানো। কাপগুলো এগিয়ে আসে একে একে।
প্যান্ট-শার্ট পাল্টে শর্টস ও টি-শার্ট। রুকস্যাকেরা পিঠে ওঠে। ঝুরো বালি ভেঙ্গে
তটে নামা হয়। আপাততঃ বুড়িবালাম নদীতীর। বলরামগুড়ি মৎসবন্দর। হাঁটতে হাঁটতে টের পাই
সমুদ্র আসছে।
সবুজ ঘাম ও হলুদ রক্ত
সাদারঙের সুইফট ডিজায়ারটা ধীরে ধীরে
থেমে গেল। ছাতিম গাছের পেছনের ছায়া থেকে বেরিয়ে এল শতদ্রু। হাত দিয়ে পেছনের সীটের
বাঁদিকের দরজাটা আস্তে করে খুলল। ৪১ ডিগ্রির তপ্ত চারপাশ এসির ঠান্ডা হাওয়ায়
মিলিয়ে গেল। চালক গাড়িটা স্টার্ট দিতে ডানদিকে ঘাড় ঘোরাল শতদ্রু। একটা ইয়াব্বড়
রোদচশমায় মুখের আদ্দেকটা ঢেকে স্নেহা বসে আছে। ঘাড়টা ঈষৎ হেলিয়ে বাঁ চোখের কোন
দিয়ে শতদ্রুকে দেখল স্নেহা। শতদ্রুর মুখে বিজবিজে ঘাম জমে আছে।
- মুখটা মুছে নাও।
- অ্যাঁ, হ্যাঁ হ্যাঁ।
শরীরটা একটু কেত্রে পকেট থেকে রুমাল
বের করে মুখটা ভাল করে মুছল শতদ্রু।
স্নেহার বাঁহাতটা এগিয়ে এল, একটা
ঠান্ডা কোকের ক্যান ধরা সে হাতে।
ভোজ
হুহু করে বিকেল তিনটের বাসটা চিপলি বাসস্ট্যান্ডে
এসে দাঁড়াল। খালাসি ছেলেটা দরজা খুলে নেমে দরজায় দুটো চাপড় মেরে, ফুররর ফুররর করে
হুইসিলটা বাজিয়ে সরে দাঁড়াতে একজন একজন করে নামতে থাকল। সাত-আটজন নামার পর আর
কাউকে নামতে বা উঠতে না দেখে ছেলেটা ফুররর বাজিয়ে দিল। বাসটা ছেড়ে দিয়ে সামনের
পুলিশ ফাঁড়ির মোড়ে ডানদিকে ঘুরে পিপরৌলির দিকে চলে গেল। যে যার বোঁচকা বুঁচকি নিয়ে
এবার এদিক ওদিক রওনা দিতে বাসস্ট্যান্ড জায়গাটা খালি খালি হয়ে গেল।
একলা হও
পৃথিবীর সব ছোট বড় রূপকথা
সময়ের সাথে সাথে বদলে যায়।
যেমন বদলে যায়
তেজী আরবী ঘোড়ার গতিশীলতা,
হাওয়ার প্রতিটি বাঁকে।
বুধবার, ৩১ আগস্ট, ২০১৬
পাহাড় চূড়োর রোদ্দুর
তোকে দিলাম ভুবনডাঙার মাঠ
তোকে দিলাম শ্যামলা দীঘির জল
মেঘ ছেঁড়া এই চাঁদের আলোর রাতে
একলা হাঁটার তুই শুধু সম্বল।
তোকে দিলাম বাতিল সেতারখানা
তোকে দিলাম বিন্নিধানের খই
চুপটি করে মুখের দিকে চেয়ে
স্তব্ধ আমি, একবুক থইথই।
তোকে দিলাম মোরগফুলের ঝুঁটি
তোকে দিলাম হলুদ সর্ষেক্ষেত
বুকের মাঝে ব্যর্থ জলের স্তর
চোখের পাতায় কাঁপছে কালো মেঘ।
তোকে দিলাম পাইন গাছের ঢেউ
তোকে দিলাম কুয়াশাভেজা চিঠি
আকাশ তারার ঘুমপাড়ানি শেষে
সূর্যোদয়ের রঙিন আঁকিবুঁকি।
তোকেই দিলাম বাকি জীবনখানা
তোকেই দিলাম হাতের মধ্যে হাত
মাঝরাতের এই নীল আকাশ জুড়ে
তুই আমি শুক-সারি সংবাদ।।
এতে সদস্যতা:
পোস্টগুলি (Atom)


