১৮৫৪-র ১৩ই মার্চ, ফাল্গুনের সকাল। গোমতী নদীর জল থেকে উঠে
আসছে হালকা কুয়াশার দল। এখনো ঘুমঘোরে জড়িয়ে শহরের চোখ। কাইজারবাগের প্রাসাদের প্রাঙ্গনের
গাছগুলো ফুলে ফুলে রঙিন। প্রাসাদের ছাদে একলা
পায়চারী করছেন ওয়াজেদ আলি শাহ।
আজ বাতাসে গোলাপের খুশবু নেই। নেই ঠুম্রীর বোল। হায়, ঠুম্রীকে জান দিলাম, মানে
তুললাম খোদ এই লক্ষ্ণৌ-এর
বুকে। পিয়ারী কয়েকদিন আগেই বলছিল, তবসুম নামে এক নতুন কিশোরী পেশ হবে ঠুম্রীর জগতে। তার তালিম প্রায় শেষ। তার গান কি শোনা হবে?
বুকে। পিয়ারী কয়েকদিন আগেই বলছিল, তবসুম নামে এক নতুন কিশোরী পেশ হবে ঠুম্রীর জগতে। তার তালিম প্রায় শেষ। তার গান কি শোনা হবে?
আস্তাবলে সহিসরা ঘোড়াগুলোকে দানাপানি দিচ্ছে। কেউ করছে দলাই-মলাই। আজ যাত্রা সুদূরে। সুদূর বাংলায়। ব্রিটিশ রেসিডেন্ট-এর নির্দেশে অওধের নবাব ওয়াজেদ আলি শাহকে আজ তাঁর প্রাণপ্রিয় লক্ষ্ণৌ ছেড়ে চলে যেতে হবে। চলে যেতে হবে কলকাতার তিন কিলোমিটার দক্ষিণে মেটিয়াব্রুজে – নির্বাসনে।
রাজকীয় যাত্রা যখন শুরু হয় নবাবের, সারা লক্ষ্ণৌ শোকাকুল। গরীব
কি ধনী, যুবা কি বয়স্ক সকলেই চোখের জলে বিদায় জানায় তাদের প্রিয় নবাবকে।
তাঁর প্রাণপ্রিয় লক্ষ্ণৌ ছেড়ে চলে যাবার ক্ষোভে-দুঃখে তাঁর ব্যাথাতুর হৃদয়
থেকে উৎসারিত হল –
“বাবুল মোরা, নইহার ছুটো হি যায়ে
চার কাহার মিলি, মোরি ডোলিয়া সাজায়ে...”।

কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন